এখন যাদের জন্য বৃত্তি খুঁজছি (ভার্সিটি)
এখন যাদের জন্য বৃত্তি খুঁজছি (ভার্সিটি)
১) আরিফা আক্তার, রংপুর, কৃষি বিভাগ, হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুর (রেজাল্ট খুব ভালো) – বাবা বিড়ি ফ্যাক্টরীতে শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন; সপ্তাহে আয় ৫০০-৬০০ টাকা। মেয়েটিও বিড়ি শ্রমিক হিসাবে কাজ করত, কিন্তু এখন ইউনিভার্সিটিতে আসার কারণে সেটা করতে পারছে না; এখন পড়াশুনার খরচ চালাতে পারছে না।
২) আসিফ রাইয়ান , ঠাকুরগাঁও, বাংলা প্রথম বর্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রেজাল্ট মোটামুটি ভালো) – দিনমজুর বাবা ৮ সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন; ওদের নিজস্ব কোন জমি নেই; এডমিশনের টাকাও আরেকজনের সহায়তায় ব্যবস্থা হয়েছে; ছেলেটি এখন ক্যাম্পাসে এসে থাকা খাওয়ার টাকা জোগাড় করতে পারছে না।
৩) তাবাসসুম আক্তার, দিনাজপুর, কৃষি, হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর (রেজাল্ট খুব ভাল) – বাবা দরিদ্র কৃষক, নিজেদের জমি নেই, অন্যের জমিতে কাজ করেন; তার উপরে তিনি ডায়াবেটিসের রোগী; সংসার চালানো এবং চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আর্থিক সংকটের কারণে মেয়েটির পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার পথে।
৪) আব্দুল কাদের, কুড়িগ্রাম, বাংলা প্রথম বর্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (রেজাল্ট ভালো)- ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় স্ট্রোক করে বাবা মারা যান। তারপর থেকে ওদের সংগ্রাম শুরু, মায়ের তেমন কোন ইনকাম নাই, ছেলেটির সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় এ পর্যন্ত এসেছে, কিন্তু এখন ভার্সিটিতে থাকা খাওয়ার খরচ যোগ করতে পারছে না।
৫) সুরাইয়া আক্তার রুহি, রাজশাহী, ইংরেজি দ্বিতীয় বর্ষ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া (রেজাল্ট খুব ভালো)- মেয়েটি খুব ভালো রেজাল্ট করে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু সেটা কন্টিনিউ করা কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে; তার বাবা অতি দরিদ্র কৃষক, সংসার চালিয়ে তাকে পড়াশোনা করে দিতে পারছে না।
৬) শফিকুল ইসলাম, লালমনিরহাট, 2nd Year, EEE, DUET, গাজীপুর (রেজাল্ট খুব ভাল)- ছেলেটি অনেক কষ্ট করে পড়াশুনা করে স্বপ্নের ডুয়েটে চান্স পেয়েছে, কিন্তু এখন তা কন্টিনিউ করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ভ্যানচালক বাবা সংসার চালিয়ে ছেলের পড়াশুনার খরচ দিতে পারছেন না।
৭) শ্রাবণী আক্তার বিথী, লক্ষ্মীপুর, আইন, মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, মিরপুর ঢাকা (রেজাল্ট খুব ভালো)- মেয়ে ভালো রেজাল্ট করায় এবং ল তে পড়ার স্বপ্ন থাকায় তাকে বাবা ঢাকা শহরে এই ভার্সিটিতে ভর্তি করে দিয়েছে। কিন্তু দরিদ্র বাবা পক্ষে খরিচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না, মেয়েটি টিউশনি করে কোন রকম টিকে থাকার চেষ্টা করছে, কিন্তু সব সময় টিউশনি থাকে না।
৮) মোঃ আজহার, কিশোরগঞ্জ , ইসলামিক স্টাডিজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রেজাল্ট ভালো) প্রতিবন্ধী ছেলেটির মা আগেই মারা গেছেন, বাবা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে সংসার চালায়, কিন্তু তার বয়স ৬০+, আগের মত পরিশ্রম করতে পারেন না, ছেলেটির পড়াশুনা বন্ধ হওয়ার পথে।
৯) শ্রীলেখা রায়, ঠাকুরগাঁও, CSE, হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর (রেজাল্ট খুব ভালো)- গত ডিসেম্বরে বাবা মারা গেছেন, তিনি ছিলেন আয়ের প্রধান উৎস, আগে ভাই পড়াশোনার খরচ দিতেন. কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর তাকে সংসার চালাতে হচ্ছে, তাই তিনি টাকা দিতে পারেন না, টাকার অভাবে মেয়েটাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছে, কিন্তু সে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়।
১০) আকলিমা খাতুন, যশোর, ফোকলোর স্টাডিজ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া (রেজাল্ট ভালো)- বাবা দিনমজুর, নিজেদের তেমন জমি জমা নেই, অন্যের জমিতে কাজ করেন। মেয়েটির আরো দুই ভাই বোন পড়ালেখা করে, বাবা সংসার চালিয়ে ওদের পড়ালেখার খরচ দিতে পারছেন না।
(বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বৃত্তি বছরে ২১৬০০ টাকা)
অন্যান্য
এখন যাদের জন্য বৃত্তি খুঁজছি –(স্কুল-কলেজ)
১) সিবগাতুল লাবিব, লালমনিরহাট, পদার্থবিজ্ঞান অনার্স প্রথম বর্ষ, সরকারি কলেজ দিনাজপুর- ছোটবেলায় বাবা-মায়ের ঝামেলা হওয়ায় মা ওকে ছেড়ে নানু বাড়িতে চলে যায় এবং ছেলেটি তার দাদুর কাছে বড় হতে থাকে। কিন্তু ২০১৮ সালে বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয় এবং বাবা বিয়ে করে অন্য সংসারে চলে যান। এত কিছুর পরও দাদু ছিল তার একমাত্র ভরসা, মূলত তার উৎসাহে এতদূর আসতে পেরেছে। সম্প্রতি তিনি মারা যাওয়ার পর ছেলেটি পুরোপুরি অসহায় হয়ে গিয়েছে। সকল পরীক্ষায় GPA-5 পেয়েও শুধু টাকার অভাবে ভালো কোন ভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারেনি। (বছরে বৃত্তি ১৩০০০ টাকা)
২) তানজিমুল ইসলাম, ১২শ শ্রেনি, আশার আলো কলেজ, নড়াইল – ছেলেটির দরিদ্র কৃষক পরিবারের জন্মগ্রহণ করে। ছোটবেলা থেকে অন্ধত্ব নিয়ে বড় হয়েছে। পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ থাকার কারণে বাবা তাকে অন্ধদের স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছেন। কিন্তু এখানে পড়াশোনা এবং থাকা খাওয়ার খরচ তার পরিবার দিতে পারছে না। (বছরে বৃত্তি ১১৮০০ টাকা)
৩) দিদার হোসেন , আব্দুল কাদির কলেজ , নরসিংদী, ১১শ শ্রেণী – বাবা অতি দরিদ্র কৃষক, জমি জমা তেমন নেই, সামান্য ইনকাম দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার খরচ দিতে পারছেন না। (বছরে বৃত্তি ১১৮০০ টাকা)
৪) রিফাত আলী কাওসার, ১১শ শ্রেণি, আলিনগর স্কুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্কুল – ছেলেটির রেজাল্ট মুটামুটি ভাল; বাবা ভ্যান চালক; ছেলে কে পড়াশুনার টাকা দিতে পারেন না। ছেলেটি বড় হয়ে শিক্ষক হতে চায়। (বছরে বৃত্তি ১১৮০০ টাকা)
৫) নুপুর, ১১শ শ্রেনি, মাগুরা সরকারী কলেজ, মাগুরা, বাবা দরিদ্র কৃষক, সংসার চালিয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার খরচ দিতে পারছেন না। মেয়েটির রেজাল্ট মুটামুটি ভাল; সে বড় হয়ে শিক্ষিকা হতে চায়। (বছরে বৃত্তি ১১৮০০ টাকা)