They are waiting for scholarship

এখন যাদের জন্য বৃত্তি খুঁজছি (ভার্সিটি)

১) রিয়াদ হাসান রিজভী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (রেজাল্ট ভাল) -বাবার অকালমৃত্যুতে দুই ভাইয়ের পড়ার খরচ বহন করতে গিয়ে তাদের পরিবার আজ চরম আর্থিক কষ্টে পড়েছে। বর্তমানে তাদের আয়ের কোনো নির্দিষ্ট স্থায়ী উৎস নেই। একটি বৃত্তি পেলে পড়াশুনা শেষ করে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারত!

২) মোঃ সাদিকুল ইসলাম সুমন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া (রেজাল্ট ভাল) – ভূমিহীন পিতা কোমরের হাড়, হাঁটু ও পিঠের ব্যথার কারণে ভারী কাজ করতে পারছেন না । ছোট ভাই হাফেজি পড়ে। বর্তমানে পরিবারে আয়ের কোনো উৎস নেই এবং ঋণ করে সুমনের পড়াশোনা চলছে। আর্থিক অনটনে দুই ভাইয়ের পড়াশোনা বন্ধ হতে বসেছে।

৩) নাছিম মাহমুদ, নরসিংদী, ইসলামের ইতিহাস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (রেজাল্ট মুটামুটি ভাল) – ছেলেটি তার এলাকা থেকে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। বাবা অনেক হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ছেলের পড়াশুনার খরচ চালাতেন। কিন্তু তার এখন বয়স হয়েছে। ছেলেটি নিজেও শবাস কস্ট সহ নানা অসুখে ভুগছে। বাবা এত খরচ সামাল দিতে পারছেন না। 

৪) সজীব উদ্দিন, নাটোর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, (রেজাল্ট ভালো)-  ২০০৬ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা কোনোরকম সংসার চালাচ্ছেন। ওদের বসত ভিটা ছাড়া নিজস্ব কোন জমি জমা নেই। এখন মা নিজেও অসুস্থ হয়ে গেছে, সংসার চালাতে পারছেন না।

৫) ঈশিতা পারভীন তিন্নি, মাগুরা, ফরেস্ট্রি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়  (রেজাল্ট খুব ভালো)- মেয়েটি চতুর্থ বর্ষে পড়ছে, আমাদের বৃত্তি পেত। হঠাৎ তার মোরাল প্যারেন্ট ব্যক্তিগত কারণে বৃত্তি বন্ধ করেছেন। বাবা কৃষি কাজ করে মেয়ের পড়ালেখার খরচ দিতে পারছেন না। শেষ বেলায় এসে মেয়েটির পড়াশুনা চালানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

৬) হাসনাত হাবিব, ঠাকুরগাঁও, সমাজবিজ্ঞান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, (রেজাল্ট খুব ভালো)- মা মারা গেছেন অনেক আগে, বাবা নতুন সংসার করেছেন। সৎ মা পড়াশোনা করাতে চান না। বাবার কৃষিকাজ থেকে সামান্য আয় দিয়ে পড়াশুনার খরচ চালাতে পারছেন না, পড়াশুনা চালানো অনিশ্চিত।

৭) সানজিদা আক্তার, রংপুর, পশুপালন অনুষদ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ (রেজাল্ট খুব ভালো)- বাবর একটা দর্জির দোকান ছিল, তা দিয়ে মোটামুটি সংসার চলে যেত। কিন্তু বাবার চোখে সানি পড়ার কারণে আর দোকানটা চালাতে পারছেন না। মেয়েকে ভার্সিটিতে ভর্তি করতে গিয়ে সেলাই মেশিন বিক্রি করতে হয়েছে।  

৮) তানভীর হোসেন, জয়পুরহাট, আইন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া (রেজাল্ট ভালো)- ছেলেটির বাবা কৃষক, ছেলেটি টিউশনি করে চলত। টিউশনি পর্যাপ্ত থাকায় সে মোরাল প্যারেন্টিং এর বৃত্তি স্থগিত করেছিল। কিন্তু এখন তার টিউশনি নেই, তাই পড়াশুনা চালানোর জন্য একটি বৃত্তির খুব দরকার।

৯) ওয়াজেদ আলী, নীলফামারী, প্রথম বর্ষ আইন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া (রেজাল্ট মোটামুটি ভালো)-ছেলেটি চর এলাকা থেকে অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করে উঠে এসেছে। নিজে দিনমজুরি করে, রিক্সা চালিয়ে, রাজমিস্ত্রির যোগাল হিসাবে কাজ করে টাকা সংগ্রহ করে ভার্সিটি পর্যন্ত এসেছে। এখনো মাঝেমধ্যে রিক্সা চালিয়ে পড়ালেখার খরচ সংগ্রহ করতে হয়। এত পরিশ্রম করতে গিয়ে ঠিক মত পড়াশুনা করতে পারছে না।

১০) তৌহিদ হাসান, বগুড়া, কৃষি অনুষদ, হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর,(রেজাল্ট ভালো)- বাবা ভ্যান চালক, তার বয়স হয়েছ্‌ প্রায় ই অসুস্থ থাকেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা 5 জন। ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তির টাকাটাও ঋণ করে সংগ্রহ করেছেন। এখন তিনি ঋণের ফাঁদে পড়েছেন, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া দিনদিন অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।

এখন যাদের জন্য বৃত্তি খুঁজছি –(স্কুল-কলেজ)  

১) দিদার হোসেন , আব্দুল কাদির কলেজ , নরসিংদী, ১১শ শ্রেণী – বাবা অতি দরিদ্র কৃষক, জমি জমা তেমন নেই,  সামান্য ইনকাম দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার খরচ দিতে পারছেন না।  (বছরে বৃত্তি ১১৮০০ টাকা)

২) মনিরুল ইসলাম সিয়াম, ১২শ শ্রেণী, উত্তরা হাই স্কুল, ঢাকা – বাবা সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরি করেন। এই সামান্য বেতন দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি তাকে তিন সন্তানের পড়ালেখার খরচ দিয়ে হয়, যা দিনদিন তার জন্য অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।  (বছরে বৃত্তি ১১৮০০ টাকা)

৩) সুমাইয়া আক্তার, দিনাজপুর, নার্সিং কলেজ নীলফামারী-  বাবা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন কিন্তু শত্রুতা বশত কেউ মাছগুলো বিষ দিয়ে নকশা নষ্ট করে দিয়েছে। এখন তিনি ঋণের জালে আটকা পড়েছেন, ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করেন। মেয়েটি আমাদের বৃত্তি পেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু হঠাত তার বৃত্তিটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পড়শুনা বন্ধ হওয়ার পথে।  (বছরে বৃত্তি ১৩০০০ টাকা)

 ৪) অনিকা খাতুন, নবম শ্রেণী, বাগভান্ডার স্কুল কুড়িগ্রাম-  মেয়েটি ক্লাসে 62 জনের মধ্যে ফাস্ট গার্ল; স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার, কিন্তু সে তার পড়াশোনা চালাতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে চিন্তিত। বাবা ফেরিওয়ালা, সব সময় আয় হয় না, মা চানাচুর কারখানায় চাকরি করেন। টাকার অভাবে মেয়েকে বিয়ে দিতে চান। (বছরে বৃত্তি ৯২০০ টাকা)

৫) তিশা আক্তার, নবম শ্রেণী, পার পলিতা স্কুল, মাগুরা – মেয়েটি তার ক্লাসের 39 জনের মধ্যে দ্বিতীয়। বাবা দরিদ্র কৃষক নিজের তেমন জমে জমা নাই, সামান্য আয় দিয়ে মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারছেন না। (বছরে বৃত্তি ৯২০০ টাকা)