আমি একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। সেই স্বপ্ন নিয়েই ডুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করি। মনে হয়েছিল, এবার জীবন একটু সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। পড়াশোনা শেষ করেও চাকরি পেলাম না। একের পর এক আবেদন, একের পর এক ব্যর্থতা—দীর্ঘ বেকারত্ব আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলেছিল। পরিবারের প্রত্যাশা আর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে সময়টা ছিল খুব কঠিন।

তবুও আমি হাল ছাড়িনি। বুঝেছিলাম, সুযোগ না এলে সুযোগ তৈরি করতে হয়। তখনই বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নিই। জানতাম, আর্থিক সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হবে। তাই নিজের সামর্থ্যের মধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করি—রিসার্চ পেপারে কাজ করি, ইংরেজি দক্ষতা বাড়াই, লক্ষ্য ঠিক করি। ধীরে ধীরে বুঝতে শিখি, বিদেশে পড়াশোনার জন্য শুধু স্বপ্ন নয়, দরকার পরিকল্পনা, ধৈর্য আর লেগে থাকার মানসিকতা।

একজন বন্ধুর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথা জানতে পারি। শুরু হয় নতুন লড়াই—CV আপডেট, SOP লেখা, রিকমেন্ডেশন সংগ্রহ এবং অসংখ্য প্রফেসরের কাছে ইমেইল পাঠানো। অনেক ইমেইলের উত্তর আসেনি, অনেক সময় হতাশা ভর করেছে। তবুও আমি অপেক্ষা করেছি, চেষ্টা থামাইনি। প্রতিদিন ইমেইল চেক করতাম এই আশায়—একদিন নিশ্চয়ই উত্তর আসবে।

অবশেষে সেই দিন আসে। মালয়েশিয়ার Universiti Malaysia Pahang Al Sultan Abdullah–এর একজন প্রফেসর আমাকে তাঁর অধীনে Masters by Research প্রোগ্রামে Research Assistant হিসেবে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই ইমেইলটি ছিল আমার জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। মনে হয়েছিল—সব অপেক্ষা, সব ব্যর্থতা আজ অর্থবহ হয়ে উঠেছে।

এই স্কলারশিপ শুধু একটি সুযোগ নয়; এটি আমার লেগে থাকার স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার পরিবেশে নিজেকে গড়ে তোলার পথ খুলে গেছে।

এই কঠিন সময়ে মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার আমাকে নীরবে পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের বৃত্তি ও মানসিক সহায়তা আমাকে বিশ্বাস দিয়েছে—আমি একা নই।

আজ আমি মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে চলেছি। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আছে, তবে এখন আমি জানি—লেগে থাকলে পথ ঠিকই খুলে যায়।

মোঃ আবু সালেহ , সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, Universiti Malaysia Pahang Al Sultan Abdullah, Malaysia