১) আল-কুরআনের মর্মবাণী অনুসন্ধান-
পবিত্র কুরআনের অর্থ জেনে সেই অনুযায়ী জীবন গঠনে মোরাল চিলড্রেনদের উৎসাহিত করতে এই প্রগ্রাম চালু করা হয়েছে। গত বছরের মত এবারও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্রহী মোরাল চাইল্ডদের জন্য ৫০-৬০ টি (অর্থ সহ উন্নতমানের) কুরআন শরীফ কিনে পাঠানো হচ্ছে। তারা গ্রুপ করে ভাগ করে বিভিন্ন অংশ পড়বে; সুরা ভিত্তিক আলোচনা করবে এবং তা “একসাথে ইফতার” বা অন্য সময়ে অনলাইন-অফলাইনে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। ফাইনালী একদিন সকলে মিলে অনলাইনে একটি প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হবে এবং জয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে- এই আয়োজনে আপনি পবিত্র কুরাআন শরীফ কিনে দিতে পারেন।
২) স্বাবলম্বী প্রজেক্ট-
মোরাল চাইল্ডদের পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে “স্বাবলম্বী প্রজেক্ট” পরিচালনা করা হয়। এটি এককালীন সহায়তা প্রদান এবং যাকাতের অন্যতম খাত। গত চার বছরে প্রায় ৫৫০ টি পরিবারকে স্বাবলম্বী ফান্ড প্রদান করা হয়েছে, এর মধ্যে অনেকেই আংশিক এবং কয়েকজন পুরাপুরি স্বাবলম্বী হতে পেরেছে। এত অল্প টাকায় যে একটি পরিবার স্বাবলম্বী হতে পারে তা কল্পনাতীত, কিন্তু আমাদের ছেলেমেয়েরা তা করে দেখিয়েছে; বিভিন্ন সময় Moral Parenting Group এ ওদের সফলতার গল্পগুলো হয়ত আপনাদের চোখে পড়েছে। অর্থ প্রদানের পাশাপাশি সঠিক প্রশিক্ষণ এবং গাইডেন্স প্রদান করার ফলে এই সফলতা এসেছে বলে আমাদের বিশ্বাস।
এই প্রজেক্টের জন্য এককালীন ১০২০০ (নতুন) বা ৭২০০ (২য় বার) টাকা অনুদান / যাকাত দিতে পারেন। প্রতি প্রজেক্টের জন্য একজন পরামর্শক নিয়োগ করা হয়, এক বছর পর্যন্ত ওরা মোরাল প্যারেন্টকে / দাতাকে ২ মাস পরপর কাজের অগ্রগতি রিপোর্ট পাঠাবে। আপনি এখানে আপনার যাকাতের অর্থ প্রদান করতে পারেন।
৩) একসাথে ইফতার-
মোরাল চিলড্রেনদের পারিবারিক আবহে একদিন ইফতার করার অনুভূতি দিতে প্রতি রমজানের মত এবারও এই কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রায় প্রতিটি ক্যাম্পাসে উক্ত এলাকার মোরাল চাইল্ড, মোরাল প্যারেন্ট ও ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান পরিবার সহ একসাথে ইফতার করা হয়।
এটি মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের একটি মিলন মেলা। এখানে ইফতার করার পাশাপাশি আল কুরআনের মর্মবাণী নিয়ে ওরা আলোচনা করা এবং সবার জন্য দোয়া করা হয়।
মোরাল চিলড্রেনদের একদিন একটু ভাল কিছু ইফতারী করাতে আপনিও এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন! কোন মোরাল প্যারেন্ট দেশে অবস্থান করলে আপনার কাছের ভার্সিটিতে ওদের সাথে একদিন ইফতার করতে পারেন, ওরা খুব খুশি হবে।
৪) ঈদ গিফট-
মোরাল প্যারেন্ট তার নিজ মোরাল চাইল্ড কে ঈদের উপহার পাঠাতে পারেন। ঈদের জন্য কাপড় কিনতে বা বাজার করতে টাকা দিতে পারেন। এটা অপশনাল, তবে আমরা অনুরোধ করি সম্ভব হলে বছরে একটা ঈদে নিজ সন্তানের পাশাপাশি মোরাল চাইল্ড কেও কিছু গিফট করা। সবচেয়ে ভাল হয় নিজ মোরাল চাইল্ডের সাথে কথা বলে টাকা / উপহার নিজে সরাসরি পাঠানো। এতে মোরাল চাইল্ডের খোঁজ খবর নেওয়া হল, আপনার কাছ থেকে সরাসরি গিফট পেলে ওরা অনেক খুশি হবে। তবে নিতান্তই যদি সরাসরি দেওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব না হয় তাহলে আমারা হেল্প করতে চেষ্টা করব। আমাদের কাছে খাত উল্লেখ করে টাকা পাঠাতে পারেন বা আমাদের অনুমতি দিলে পর্যাপ্ত ব্যালান্স থাকা সাপেক্ষে আপনার একাউন্ট থেকে কেটে নিতে পারি। আমরা সাধারনত ঈদ গিফট ১০০০ – ৫০০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকি।
৫) ঈদ সালামী-
যে সকল মোরাল চাইল্ড তাদের মোরাল প্যারেন্টের কাছ থেকে কোন “ঈদ গিফট” পায় না তাদের কে ঈদের কয়েকদিন আগে ঈদ সালামী (১০০০ টাকা) দেওয়া হয়। গত বছর এমন প্রায় ২০০ জনকে ঈদ সালামী দিয়েছিলাম। এবার আরও বেশী মানুষকে আর একটু বেশী পরিমানে টাকা দিতে চাই। ওদের অনেকের অবস্থা এমন থাকে যে টাকার অভাবে ঈদে বাড়ি যেতে পারে না বা ঈদের দিন সামান্য চিনি / সেমায় কিনতে পারে না বা মা-বাবার ছেঁড়া কাপড়ের পরিবর্তে একটা নতুন শাড়ি / লুঙ্গি কিনে দিতে চায় – এই সামান্য টাকা ওদের অনেক উপকারে আসে। তাই, আপনি আপনার নিজ মোরাল চাইল্ড কে ঈদ গিফট দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্য ঈদ সালামী হিসাবে কিছু টাকা আমাদের কাছে দিতে পারেন। সকল মোরাল চাইল্ড আমাদের কাছে সমান, তাই সকলকে সাথে নিয়ে ঈদের আনন্দ করতে চাই। ঈদ সালামী আপনি যে কোন এমাউন্টে দিতে পারেন।
৬) ইমারজেন্সী ফান্ড-
মোরাল প্যারেন্টিং এ নিয়মিত বৃত্তির পরিমান খুব বেশি নয়; এই টাকা দিয়ে ওদের পুরা খরচ চলেনা। প্রায়ই মোরাল চিলড্রেনরা বিপদে পড়ে (ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন, খাবার কেনা, মেস বিল, চিকিৎসা খরচ, বাস ভাড়া ইত্যাদি) আমাদের কাছে তাৎক্ষনিক সহায়তা চায়; আমরা সেটা তার মোরাল প্যারেন্ট কে ফরোয়ার্ড করি; কিন্তু অনেক মোরাল প্যারেন্ট অতিরিক্ত সহায়তা করতে পারেন না, বা সময় মত ইমেইল খেয়াল করেন না। তখন আমরা ইমারজেন্সী ফান্ড থেকে তাকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করি। রমজান মাস উপলক্ষে এই ফান্ডে আপনি কিছু অনুদান / যাকাত /সাদাকা অনুদান দিতে পারেন- যা দিয়ে এরকম বিপদে-আপদে হেল্প করতে পারব!