by Administrator | Feb 19, 2026 | Success Story
আমার জীবনের ব্যাকরণ শুরু হয়েছিল গণিতের কঠিন সমীকরণ দিয়ে নয়, বরং অভাবের নিষ্ঠুর হিসাব দিয়ে। আজ আমি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) গণিত বিভাগের প্রভাষক; কিন্তু এই পরিচয়ের আড়ালে ধানের চাতাল, চায়ের দোকান আর মাটি কাটার এক দীর্ঘ ইতিহাস লুকানো আছে।
আমি মোজাম্মেল। আমার বড় হওয়া এক প্রত্যন্ত গ্রামের দিনমজুর পরিবারে। বাবার সামান্য আয়ে যখন দু’বেলা খাবার জোটানোই ছিল অসম্ভব, তখন পড়াশোনা ছিল আমাদের জন্য আকাশের চাঁদ ছোঁয়ার মতো এক বিলাসিতা। শৈশবেই বুঝেছিলাম, টিকে থাকতে হলে হাতের তালুর চামড়া আর মনের জেদ—দুই-ই শক্ত হতে হয়। বইয়ের পাতা ওল্টানোর আগে আমাকে ধানের চাতালে শ্রম দিতে হয়েছে, চায়ের দোকানে কাপ ধুতে হয়েছে, এমনকি নিজের পড়ার খরচ জোগাতে আমি কোদাল হাতে মাটিও কেটেছি।
অন্ধকার ঘরে এক চিলতে প্রদীপ জ্বালাবার মতোই ছিল আমার জেদ। কোনো নামি কোচিং বা গৃহশিক্ষক ছাড়াই কেবল আত্মবিশ্বাসের জোরে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করি। এরপর স্বপ্নের হাতছানি ছিল ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাল সাবজেক্ট পাওয়ার পরেও শুধুমাত্র টিউশনির সহজ লভ্যতার চিন্তা করে আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হই। আমি টিউশনি করে নিজে চলেছি; পরে আমার ছোট বোনকেও এই ভার্সিটিতেই পড়িয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ছিল আমার জন্য আরও এক অগ্নিপরীক্ষা। নিজের মেস ভাড়া, সেমিস্টার ফি আর বাড়িতে টাকা পাঠানোর চাপে যখন আমার স্বপ্নগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম, ঠিক তখনই আমার জীবনে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো আশীর্বাদ হয়ে আসে ‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার’।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উদার শিক্ষক দম্পতি আমার ‘মোরাল প্যারেন্ট’ হিসেবে পাশে দাঁড়ালেন। জীবনের সেই চরম দুর্দিনে তাঁরা কেবল আর্থিক সহায়তাই দেননি, দিয়েছিলেন একজন সত্যিকারের অভিভাবকের মমতা। সেই নিশ্চিন্ত আশ্রয় আমাকে সুযোগ করে দিয়েছিল নিজের পুরোটা মেধা ঢেলে দেওয়ার। ফলাফল হিসেবে স্নাতক পরীক্ষায় ৪৫তম ব্যাচে ২য় স্থান এবং স্নাতকোত্তরে পুরো বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করি। এমনকি ১০ম ও ১১শ জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডে (ঢাকা উত্তর রিজিয়ন) যথাক্রমে তৃতীয় ও প্রথম স্থান অধিকার করেছি।
আজ আমি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাই। কিন্তু সেই পথচলায় আমার মোরাল প্যারেন্টদের ঋণ আমি কোনোদিন ভুলব না। তাঁরা যদি সেদিন আমার হাত না ধরতেন, তবে হয়তো কোনো মাটির কাছে বা ধানের চাতালেই হারিয়ে যেত আমার সব মেধা।
মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি আমার মতো অসংখ্য ‘মোজাম্মেল’দের পুনরায় জন্ম দেওয়ার কারখানা। আপনার একটুখানি সহমর্মিতা হয়তো আরও একটি পরিবারের অন্ধকার দূর করে শিক্ষার মশাল জ্বালাতে পারে। আসুন, মেধাবী এই প্রাণগুলোর পাশে দাঁড়াই, ওদের স্বপ্নকেবাস্তবে রূপ দিই।
মো: মোজাম্মেল হক প্রভাষক, গণিত বিভাগ
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)
সাবেক ছাত্র, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
by Administrator | Feb 19, 2026 | Success Story
আমি জন্মেছিলাম দুই হাতের কবজি ও পায়ের আঙুল ছাড়া। আমার জন্মের মুহূর্তেই পরিবার বুঝে গিয়েছিল—এই মেয়ের জীবন সহজ হবে না। সমাজের চোখে আমি ছিলাম “বোঝা”—এমন কথাও উঠেছিল আমাকে বাঁচিয়ে রেখে কী হবে। ঠিক তখনই আমার মা দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন,
“দরকার হলে আমি আমার মেয়েকে ভিক্ষা করে মানুষ করব, কিন্তু ওকে মেরে ফেলতে দেব না।”
এই কথাই ছিল আমার জীবনের প্রথম শক্তি। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা—জন্মের ছয় মাসের মাথায় মাকে হারাই।
মা হারানোর পর দাদি আমাকে আগলে রাখেন। বাবার নতুন সংসারে আমি ধীরে ধীরে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ি। দাদির স্নেহেই বড় হওয়া। শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—আমি কি কখনো স্কুলে যেতে পারব? কলম ধরতে পারতাম না, কিন্তু বড় বোনের ধৈর্য আর ভালোবাসায় ধীরে ধীরে লেখা শিখি। সেখান থেকেই আমার পড়াশোনার যাত্রা।
গ্রামের মাদ্রাসায় পড়ার সময় প্রতিবন্ধকতা ছিল নিত্যসঙ্গী। ঘরে আলো নিভিয়ে দেওয়া হতো, জোরে পড়তে পারতাম না—কারণ আমি ‘ডিস্টার্ব’ করতাম। মুখ বুজে সহ্য করেছি, কারণ আমি প্রতিবন্ধী। দাদি অন্যের কাছে সাহায্য চেয়ে আমার পড়াশোনা চালিয়েছেন। নতুন জামা ছিল স্বপ্নের মতো, পুরোনো খাতা–কলমেই চলত দিন। কিছু শিক্ষক বিনা বেতনে পড়িয়েছেন—এই মানুষগুলোর ভালোবাসাই আমাকে টিকিয়ে রেখেছে।
এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকাই যখন জোগাড় হচ্ছিল না, তখন মনে হয়েছিল—সব শেষ। কিন্তু সহায়তায় পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল করি। এরপর কলেজে ভর্তি, নতুন শহর, নতুন চাপ—সংগ্রাম আরও বেড়ে যায়। তবুও হাল ছাড়িনি।
এইচএসসি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করি। কোচিংয়ের টাকা ছিল না, পথ জানা ছিল না। ফ্রি কোচিং, মানুষের সাহায্য আর নিজের অদম্য চেষ্টা—সব মিলিয়ে এগোতে থাকি। প্রথমবার ব্যর্থ হই। দাদির চোখের পানি আমাকে আবার দাঁড় করায়। দ্বিতীয়বার প্রস্তুতি নিই।
অবশেষে সেই দিন আসে—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে চান্স পাই। ভর্তি ফি জোগাড় করাও ছিল আরেক যুদ্ধ, কিন্তু মানুষের সহানুভূতিতে সেই দরজাও খুলে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভয় ছিল—প্রতিবন্ধী আমি, আমাকে কি গ্রহণ করবে সবাই? কিন্তু শিক্ষক ও সহপাঠীদের ভালোবাসায় সে ভয় কেটে যায়। এই পথে মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার আমার পাশে দাঁড়িয়ে প্রথম বৃত্তি ও অমূল্য বিশ্বাস দিয়েছে।
আজ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—
প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়, বাধা হলো হাল ছেড়ে দেওয়া।
আঙুল না থাকলেও স্বপ্ন ধরা যায়—যদি বিশ্বাস আর লড়াই থেমে না যায়।
মিনারা খাতুন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
by Administrator | Feb 19, 2026 | Success Story
আমি একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। সেই স্বপ্ন নিয়েই ডুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করি। মনে হয়েছিল, এবার জীবন একটু সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। পড়াশোনা শেষ করেও চাকরি পেলাম না। একের পর এক আবেদন, একের পর এক ব্যর্থতা—দীর্ঘ বেকারত্ব আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলেছিল। পরিবারের প্রত্যাশা আর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে সময়টা ছিল খুব কঠিন।
তবুও আমি হাল ছাড়িনি। বুঝেছিলাম, সুযোগ না এলে সুযোগ তৈরি করতে হয়। তখনই বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নিই। জানতাম, আর্থিক সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হবে। তাই নিজের সামর্থ্যের মধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করি—রিসার্চ পেপারে কাজ করি, ইংরেজি দক্ষতা বাড়াই, লক্ষ্য ঠিক করি। ধীরে ধীরে বুঝতে শিখি, বিদেশে পড়াশোনার জন্য শুধু স্বপ্ন নয়, দরকার পরিকল্পনা, ধৈর্য আর লেগে থাকার মানসিকতা।
একজন বন্ধুর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথা জানতে পারি। শুরু হয় নতুন লড়াই—CV আপডেট, SOP লেখা, রিকমেন্ডেশন সংগ্রহ এবং অসংখ্য প্রফেসরের কাছে ইমেইল পাঠানো। অনেক ইমেইলের উত্তর আসেনি, অনেক সময় হতাশা ভর করেছে। তবুও আমি অপেক্ষা করেছি, চেষ্টা থামাইনি। প্রতিদিন ইমেইল চেক করতাম এই আশায়—একদিন নিশ্চয়ই উত্তর আসবে।
অবশেষে সেই দিন আসে। মালয়েশিয়ার Universiti Malaysia Pahang Al Sultan Abdullah–এর একজন প্রফেসর আমাকে তাঁর অধীনে Masters by Research প্রোগ্রামে Research Assistant হিসেবে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই ইমেইলটি ছিল আমার জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। মনে হয়েছিল—সব অপেক্ষা, সব ব্যর্থতা আজ অর্থবহ হয়ে উঠেছে।
এই স্কলারশিপ শুধু একটি সুযোগ নয়; এটি আমার লেগে থাকার স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার পরিবেশে নিজেকে গড়ে তোলার পথ খুলে গেছে।
এই কঠিন সময়ে মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার আমাকে নীরবে পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের বৃত্তি ও মানসিক সহায়তা আমাকে বিশ্বাস দিয়েছে—আমি একা নই।
আজ আমি মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে চলেছি। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আছে, তবে এখন আমি জানি—লেগে থাকলে পথ ঠিকই খুলে যায়।
মোঃ আবু সালেহ , সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, Universiti Malaysia Pahang Al Sultan Abdullah, Malaysia
by Administrator | Feb 19, 2026 | Success Story
Getting admitted into medical college was one of the happiest and proudest moments of my life. It felt like a dream coming true. But along with that joy came a big worry – how would I afford such a long and expensive course?
At that important time, Moral Parenting became a turning point in my life. Through their scholarship program and the generous support of my moral parent, Chanchal Chowdhury, I received financial help for five years. This support lifted a huge burden from my shoulders. I no longer had to constantly worry about all expenses. Because of them, I was able to focus fully on my studies and give my best effort in medical school.
But their support was not only financial. Moral Parenting also arranged different programs to help us grow. I took part in communication skills training, the Sabalombi (self-reliance) program, English development courses, and research opportunities. These programs helped me improve myself in many ways. I learned how to speak confidently, express my thoughts clearly, and prepare for my future professional life. Slowly, my confidence grew, and I became more aware of my responsibilities.
Medical education is not easy. It requires hard work, patience, and strong mental strength. There were times when I felt stressed and tired. During those difficult moments, the encouragement and guidance from Moral Parenting reminded me that I was not alone. Knowing that someone believed in me gave me the strength to keep going and work even harder.
Today, as I continue my journey in medicine, I feel deep gratitude to Moral Parenting and Chanchal Chowdhury. Their support has shaped my path and allowed me to follow my dream with dignity and hope. I sincerely thank them for investing in my future. I promise to serve people with compassion, honesty, and dedication, carrying forward the values they have taught me.
Dr. Supriya Adhikari
Faridpur Medical College
by Administrator | Nov 20, 2025 | Project of Moral Parenting (2)
Moral Parenting Family offers an AI Learning Course designed to introduce students to the exciting world of Artificial Intelligence. This course is delivered through recorded video lessons prepared by experts from a leading organization in the field.
Our aim is to make advanced AI learning accessible and affordable for students, providing them with practical knowledge and exposure to AI concepts, tools, and applications.
This course equips learners with the foundational skills to explore AI-driven technologies and opens pathways for future studies or careers in tech, data science, and automation.
We invite college and university students to join and begin their journey into the transformative world of Artificial Intelligence.