মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের মোরাল চিলড্রেনরা সারা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের গভীর থেকে আসা আবেগ, অনুভূতি ও প্রতিবাদের ভাষা দিয়ে গড়ে তুলেছে এক অনন্য শোক বই। আমাদের লক্ষ্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় শোক বই তৈরি করা, যা গাজায় চলমান নৃশংসতা ও ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের প্রতি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সহমর্মিতার দলিল হিসাবে সংরক্ষিত থাকবে।
আমরা বিশ্বাস করি, নৈতিক সমাজ গঠনে প্রতিটি মানবিক কণ্ঠই একটি অমূল্য অবদান। সেই বিশ্বাস থেকেই, গাজায় চলমান নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ বিশেষ করে শিশু ও নারীদের প্রতি অমানবিকতা, মানবতার চরম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এক অভিনব ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা আমাদের শিক্ষার্থী (মোরাল চাইল্ড) এবং ভলন্টিয়ারগন সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষদের কাছ থেকে নিজ হাতে লেখা শোক মন্তব্য, অনুভূতি, প্রার্থনা ও প্রতিবাদের ভাষা সংগ্রহ করেছে। অংশগ্রহণকারীরা তাদের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর যুক্ত করে দায়িত্ব নিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করছেন।
ইতিমধ্যে সারাদেশ থেকে প্রায় ১২,০০০ মানুষের মন্তব্য সংগৃহীত হয়েছে। সেগুলো একত্রিত করে ৬ খন্ডের একটি বিশাল বইয়ে রুপান্তর করা হয়েছে। এটি ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদর্শিত হবে। শোক বইটি চূড়ান্তভাবে সংরক্ষণের জন্য রাখা হবে ঢাকার জাতীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে।
এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগটি একদিকে যেমন হতে পারে একটি বিশ্ব রেকর্ড, অন্যদিকে এটি হয়ে উঠবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ মানবিক স্মারক, যা প্রমান করবে – আমরা নীরব ছিলাম না, আমরা আমাদের সময়ের অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম।
আমরা হিংসা, বিদ্বেষ বা কোনো ধরনের সংঘর্ষে বিশ্বাস করি না। আমাদের প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ, মানবিক এবং নৈতিক – যা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দেওয়ার এক বিনয়ী প্রয়াস।
নৈতিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার!
আমাদের মোরাল চিলড্রেনরা শুধু সমাজ থেকে সাহায্য নেই না, তারা সাধ্যমত বিভিন্ন সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে থাকে। মোরাল প্যারেন্টিং এর মূল লক্ষ্য, নৈতিক সমাজ গঠনে অবদান রাখা। নৈতিক সমাজ গঠন করতে হলে প্রথমে দরকার নৈতিক মানুষ। আমাদের মোরাল চিলড্রেনরা নৈতিক মানুষ হওয়ার প্রশিক্ষণ স্বরূপ তাদের সাধ্যমত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিটি ক্যাম্পাসে ভলান্টিয়ার টিম গঠন করা হয়েছে; তারা তাদের ক্যাম্পাসের আশেপাশে নিম্নলিখিত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেঃ
গত দুই বছরের ন্যায় এবারও আমরা “শীতবস্ত্র উপহার” কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। আমরা এই শীতবস্ত্র উপহার কার্যক্রমকে গতানুগতিক ভাবে না করে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে করার চেষ্টা করি। এই কাজের স্বচ্ছতা, যথার্থতা এবং মোরাল প্যারেন্টিং এর মূল কন্সেপ্টের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রজেক্টটি এভাবে সাজানো হয়েছেঃ
** Moral Parenting এর ভার্সিটি পর্যায়ের মোরাল চিল্ড্রেনরা তাদের নিজ গ্রামের সবচেয়ে দরিদ্র ১০ জনের (শিশু ও বৃদ্ধ) তালিকা আমাদের কাছে পাঠায়।
** প্রাপ্ত প্রপোজালের যথার্থতা যাচায় সাপেক্ষে আমরা সেই প্রজেক্টের জন্য শীতবস্ত্র কেনার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করি। যারা এরকম উপহার কখনও পাইনি তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
** একটি প্রজেক্টের জন্য ডোনেশনের পরিমান ৫২০০ টাকা। (কাপড় কেনা ৫০০০ + অন্যান্য খরচ ২০০)।
** কোন প্রজেক্টে ডোনেশন পেলে তা দিয়ে উক্ত মোরাল চাইল্ড উল্লেখিত মানুষদের পছন্দমত রঙ, সাইজ অনুযায়ী নতুন শীতবস্ত্র কিনে দিবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে তারা নিজেরা দোকানে গিয়ে নিজেদের কাপড় পছন্দ করে নিবে।
** আপনি যে প্রজেক্টের জন্য টাকা দিবেন সেই মানুষগুলো জানবে যে আপনি এটা তাদের উপহার হিসাবে দিয়েছেন; কোন দান বা অনুগ্রহ নয়।
** কাজ শেষে মোরাল চাইল্ড তার কার্যক্রমের বিস্তারিত রিপোর্ট (বিবরণ, হিসাব,গ্রহিতার ঠিকানা, ছবি) দাতার কাছে ইমেইলে পাঠাবে।
এই প্রজেক্ট মূলত দুটি উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়ঃ এক- প্রকৃত দুস্থ মানুষকে তার জন্য উপযুক্ত শীতের কাপড় উপহার দেওয়া। দুই- আমাদের মোরাল চিলড্রেনদের সামাজিক কাজে উদ্বুদ্ধ করা।
গত বছর এই কাজ করতে গিয়ে আমাদের মোরাল চিল্ড্রেনরা অনেক মর্মস্পর্শী এবং আনন্দদায়ক ঘটনার সাক্ষি হয়েছিল। আশাকরি এবারও কাজটা সফল ভাবে করতে পারব; এবং কিছু প্রকৃত শীতার্ত-দুস্থ মানুষের উপকার করতে পারব। আপনি অর্ধেক, এক বা একাধিক গ্রুপকে শীতবস্ত্র উপহার দিতে পারেন; ২৬০০ টাকার গুণিতক যে কোন এমাউন্ট ডোনেট করতে পারেন।